প্রতিদিনের রূপচর্চায় কেন গোলাপ রাখবেন?
গোলাপ কে বলা হয় ফুলের রানী। ভালবাসার মানুষদের উপহার দেওয়া হয় এ ফুল। তবে গোলাপ ফুল শুধুই উপহারের জন্য অথবা সাজ সজ্জার জন্য নয়। প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চার অনুষঙ্গ হিসেবে গোলাপের পাপড়ি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পূর্বে রানী এবং রাজকুমারীরা গোলাপের জলে স্নান করতেন। রূপচর্চাতেও রয়েছে এর বহু গুনাগুণ। গোলাপের পাপড়ি দিয়ে চুল এবং ত্বক উভয়ের যত্ন নেওয়া যায়।
ত্বকের কোমলতা বাড়াতে
গোলাপের পাপড়ি তে থাকা প্রাকৃতিক তেল ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে।রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ২ কাপ পানিতে একটি তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি ভিজিয়ে রাখুন। ঘুম থেকে উঠে এই পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও কোমলতা বাড়বে। শুকনো গোলাপের পাপড়ির সাথে মধু, দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে রাতে ঘুমানোর পূর্বে মুখে লাগান এবং শুকানোর পর ধুয়ে ফেলুন।
ত্বকের কোমলতা বাড়াতে
গোলাপের পাপড়ি তে থাকা প্রাকৃতিক তেল ত্বককে
ময়েশ্চারাইজ করে।রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ২ কাপ পানিতে একটি তাজা গোলাপ ফুলের পাপড়ি
ভিজিয়ে রাখুন। ঘুম থেকে উঠে এই পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের উজ্জ্বলতা ও
কোমলতা বাড়বে।
শুকনো গোলাপের পাপড়ির সাথে মধু, দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে রাতে ঘুমানোর পূর্বে মুখে লাগান
এবং শুকানোর পর ধুয়ে ফেলুন।

ডার্ক সার্কেল দূর করতে
চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে গোলাপের
পাপড়ির ভূমিকা বেশ কার্যকরী। এক টুকরো তুলো নিয়ে গোলাপজলে ভিজিয়ে নিয়ে টা চোখের
নিচে রাখতে হবে। কিছুক্ষন রেখে দিতে হবে। এভাবে টানা কয়েকদিন করলেই ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
সানস্ক্রিন হিসেবে
গোলাপের পাপড়িতে অনেক বেশি পরিমানে ভিটামিন-সি
সম্পন্ন; যা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি
থেকে ত্বককে রক্ষা করে। রোদে বের হওয়ার আগে গোলাপজল, আমন্ড অয়েল ও শসার রস মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।এতে ত্বক রোদে
পুড়ে যাওয়া হতে অনেকটাই বাঁচবে।
টোনার হিসেবে
গোলাপের পাপড়ি দিয়ে তৈরি গোলাপজল ত্বকে টোনার
হিসেবে কাজ করে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এক টুকরো তুলো গোলাপজলে ভিজিয়ে নিয়ে আলতো করে
সম্পূর্ণ মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। এতে ত্বকে জমে থাকা ময়লা, পাশাপাশি মেকআপ ভালো করে উঠে আসে।ক্যামিকেল টোনার ব্যবহার না করে
প্রাকৃতিক ভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়।
ঠোঁটের যত্নে
ঠোঁটের যত্নে লিপবামের চেয়েও কার্যকরী ভূমিকা
রাখতে পারে গোলাপের পাপড়ি।গোলাপের পাপড়ি বেটে তার সাথে দুধ আর মধু মিশিয়ে পেস্ট
তৈরি করুন এবং তুলা দিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে দিন ১০ মিনিট।এটে ঠোঁটের কালচে ভাব দূর
হয় ও গোলাপি আভা তৈরি হয়। গোলাপের পাপড়ির রস ও
তুলসি পাতার রস মিশিয়ে ও ঠোঁটে ব্যবহার করতে পারেন।

চুলের যত্নে
চুলের গোঁড়ায় পুষ্টি জোগায়। গোলাপের পাপড়ি চুলের
ক্ষেত্রেও ব্যাবক ভূমিকা রাখে। চুলের গোঁড়ায় প্রায় সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছতে
পারেনা। গোলাপের তৈরি প্যাক গুলো প্রতিটি জায়গায় পৌঁছতে সক্ষম। চুলের গোঁড়ায় রক্ত চলাচল
সচল করে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে ও চূলকে প্রাণবন্ত ও মসৃণ করে ।
ত্বকের যত্নে
গোলাপের পাপড়িতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট বৈশিষ্ট্য ত্বক হাইড্রেট এবং কোমল রাখে। রুক্ষ-শুষ্ক ত্বককে
পুনরুজ্জীবিত করে তোলে গোলাপের পাপড়ি। সুন্দর ত্বক পেতে গেলে গোলাপের পাপড়ির ফেস
প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
গোলাপের পাপড়ি, দুধ ও চন্দনের ফেস
প্যাক: গোলাপের পাপড়ি পিষে তার সঙ্গে ২ টেবিল চামচ চন্দন পাউডার এবং কাঁচা দুধ
মিশিয়ে নিন। ফেস প্যাকটি মুখে লাগিয়ে শুকোতে দিন। তারপর মুখ ধুয়ে ফেলুন।
কমলালেবুর খোসা এবং গোলাপের ফেস প্যাক: কমলালেবুর খোসা গুড়োর সাথে গোলাপ গুড়ো ও মধু মিশিয়ে পুরো মুখে প্যাকটি লাগান। শুকিয়ে গেলে
ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি মুখের দাগছোপ তুলতে বেশ সহায়ক। রোদ এবং দূষণের ফলে ত্বকের
যে ক্ষতি হয়, তা থেকে ত্বককে রক্ষা
করে এই প্যাক।
নারকেল দুধ, অলিভ অয়েল এবং
গোলাপের পাপড়ির ফেস প্যাক: নারকেলের দুধ ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ
করে। নারকেল দুধ এবং অলিভ অয়েল ভিটামিন ই সমৃদ্ধ, যা ত্বককে অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বক আর্দ্র রাখে। ভিটামিন এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফেস প্যাক ত্বক সুস্থ রাখে ও উজ্জ্বল রাখে।
গোলাপের পাপড়ি, ৪ চা চামচ নারকেল দুধ ও ২ চা চামচ অলিভ ভালো করে মিশিয়ে
মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
অ্যালোভেরা এবং গোলাপের ফেস প্যাক: শুষ্ক ত্বককে হাইড্রেট করতে এই ফেস প্যাক অবশ্যই ব্যবহার করুন। অ্যালোভেরা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে, ত্বককে টানটান করতেও সাহায্য করে। গোলাপের পাপড়ি পেস্ট করে তার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল এবং গোলাপ জল মিশিয়ে মুখে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেস প্যাকটি ব্রণ-পিম্পল সারাতেও কার্যকর।



