ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
আদিকাল থেকেই মানুষ রূপচর্চা ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর ভরসা করে আসছে। এর প্রধান কারণ হলো, ভেষজ উপাদানগুলোতে ত্বকের জন্য কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে না। ফলে এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শঙ্কা থাকে না। তবে ত্বকের যত্নে কোনো ভেষজ উপাদান ব্যবহার করার আগে নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে কাজের ফাঁকে নিজের জন্য সামান্য সময় বের করা এবং হাতের কাছে থাকা ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেই ত্বকের প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া সম্ভব। ত্বককে পরিষ্কার রাখা হলো যত্নের প্রথম ধাপ। মুখ ধোয়ার বিকল্প নেই, আর পানি হলো সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। প্রতিদিন অন্তত চার থেকে পাঁচবার মুখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে ত্বক সতেজ থাকে। অনেকেই মুখ পরিষ্কার করতে সাবান ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু এটি অনেক সময় ত্বককে শুষ্ক করে ফেলে। এর পরিবর্তে ঘরোয়া উপাদান যেমন— বেসন, কাঁচা হলুদ এবং চালের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মিশ্রণটি ত্বকের ময়লা দূর করার পাশাপাশি ত্বককে কোমল ও উজ্জ্বল করে তোলে।
ত্বককে সতেজ রাখতে নিয়মিত স্ক্রাব ব্যবহারও জরুরি। বাজারে পাওয়া স্ক্রাবের পরিবর্তে খুব সহজেই ঘরেই প্রাকৃতিক স্ক্রাব তৈরি করা যায়। বাইরে থেকে ফেরার পর চালের গুঁড়ো, মুসুর ডালের গুঁড়ো ও চন্দন গুঁড়োর সাথে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মুখে লাগালে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয় এবং ব্ল্যাকহেডস কমে যায়।

এছাড়াও, সপ্তাহে অন্তত একদিন ত্বকের জন্য ফেসপ্যাক ব্যবহার করা উচিত। শুষ্ক ত্বকের জন্য বেসন, কাঁচা হলুদ গুঁড়ো এবং কাঁচা দুধ দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক অত্যন্ত কার্যকর। এটি ত্বককে পুষ্টি জোগায় এবং শুষ্কতা কমায়। অন্যদিকে, ব্রণ ও দাগ দূর করতে এবং ত্বক উজ্জ্বল রাখতে চন্দনের ফেসপ্যাক দারুণ ফল দেয়।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি একটি অসাধারণ উপাদান। এটি অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং ত্বককে টানটান রাখে। ফলে রোমকূপ বন্ধ হয় না, ব্রণ কমে এবং ত্বক সতেজ থাকে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি যত্নই হলো ত্বকের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। এগুলো ত্বকের ভেতর থেকে সৌন্দর্য বাড়ায়, একই সাথে ত্বককে ক্ষতিকর রাসায়নিকের হাত থেকে রক্ষা করে।
Image Source: Freepik



